বাংলা ই-বই
পজিটিভ থটস

পজিটিভ থটস
চলছে করোনা মহামারি। গৃহবন্দি আমরা সকলে নিজেদের মতো করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সর্বাত্মক চেষ্টা করছি এই বিপদ থেকে মুক্ত হতে। কিন্তু কেউই নিশ্চিতভাবে জানি না, সামনে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করে আছে। তাই স্বভাবতই অবসাদ্গ্রস্ত হয়ে পড়ছি অনেকে, নিমজ্জিত হচ্ছি হতাশায়। শত চেষ্টা সত্ত্বেও পারছি না মনোবল ধরে রাখতে।
প্রতিদিন সংবাদ দেখে, পড়ে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রল করতে গিয়ে সম্মুখীন হচ্ছি নানাবিধ বাজে খবরের, যা আমাদেরকে মানসিকভাবে আরো বিপর্যস্ত করে তুলছে। এছাড়া প্রত্যেকের নিজ নিজ জীবনের বিভিন্ন সমস্যা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে এ এক কঠিন দুঃসময়। এ সময়ে আমাদের খুব বেশি করে প্রয়োজন নিজেদের মনকে শান্ত রাখা, ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা।
এক্ষেত্রে ইতিবাচক কিছু লেখা হতে পারে বিশেষ সহায়ক। মূলত সেই চিন্তা থেকেই, গত কয়েক মাসের বিভিন্ন সময়ে এমন বিভিন্ন লেখা লিখেছি, যার মাধ্যমে নিজের ইতিবাচক চিন্তাকে অন্যদের সাথে ভাগ করে নেয়া যায়, এবং তার মাধ্যমে অন্যদেরকেও কিছুটা উজ্জীবিত করা যায়। আর সেই লেখাগুলোকেই এবার একত্র করে একটি সংকলনের মতো দাঁড় করানোর চেষ্টা করলাম।
এমনটি মোটেই দাবি করছি না যে এই সংকলনের প্রতিটি লেখাই খুব উঁচুদরের। আমি নেহাতই একজন সাধারণ মানুষ, তাই আমার চিন্তাভাবনা ও তার বহিঃপ্রকাশও নিতান্তই সাধারণ। কিন্তু এই সাধারণ কথামালা পড়েও যদি কেউ মানসিকভাবে কিছুটা শান্তি লাভ করেন বা সমৃদ্ধ হতে পারেন, এই কঠিন সময়ে কিছুটা আনন্দ লাভ করেন, তাহলে আমার এই প্রয়াস সফল হয়েছে বলে ধরে নেব।
আশা করি, সামনে আমাদের জন্য সুদিন অপেক্ষা করছে। আসুন, ভেঙে না পড়ে, প্রস্তুতি নিই সেই সুদিনকে দুহাত বাড়িয়ে বরণ করে নেয়ার।
ছেলেদের রামায়ণ

ছেলেদের রামায়ণ
এটি বাল্মীকি-রচিত রামায়ণের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। এ সম্পর্কে লেখক নিজেই লিখেছেন - "শিশুরা যেরূপ ভাষায় লেখে, এই পুস্ তকে সেইরূপ ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা হইয়াছে। সে চেষ্টা সফল হইয়াছে কি না জানি না, কিন্তু এরূপ করিতে গিয়া যে পুস্তকের ভাষাকে কিছুমাত্র মার্জিত করিতে পারি নাই তাহা দৃষ্টিমাত্রই লক্ষিত হইবে। শ্রদ্ধাস্পদ বন্ধু শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় দয়া করিয়া একবার দেখিয়া না দিলে, ইহাতে আরও অনেক ত্রুটি থাকিত। "
পালামৌ

পালামৌ
ভ্রমণপ্রিয় মানুষ যারা পাহাড় আর সাগরের প্রেমে মজেছেন তারা সকলেই বলে থাকেন যে পাহাড় বা সাগর তাদের নীরবে আহ্বান করে । বিশেষ করে এই দুই জায়গার স্থির একঘেয়ে রূপ সত্ত্বেও এক অজানা মায়ার টান অনুভব করেন নাবিকেরা, অনেক পর্বতারোহীরা। এই মায়ার খেলা যুগ-যুগান্তর ধরে চলে এসেছে। “পালামৌ” গল্পে লেখক সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এমনই মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ার অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন। যদিও এই ভ্রমণ কাহিনী যতটা না ভ্রমণ কাহিনী, তার চেয়ে মানবিক উপাখ্যানের গল্প হিসেবেই ধরা দেবে পাঠকের হৃদয়ে।
গোয়েন্দা সেক্সটন ব্লেক

গোয়েন্দা সেক্সটন ব্লেক
উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিক, তখন ভিক্টোরিয়ান যুগ শেষের পথে, এইসময়ে ব্রিটিশদের পড়ার অভ্যাসে গভীর পরিবর্তন ঘটছিল। দ্য স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিনে ততদিনে ডয়েলের হাতধরে এসে গেছেন শার্লক ।হোমসের সাফল্যের ফলে ডিটেকটিভ গল্পের দিকে লেখক এবং পাঠক উভয়েরই আগ্রহ আরো বাড়তে থাকে এবং এই ধারার আরো অনেক গল্প বার করার চেষ্টা হতে থাকে।
এমনই এক যুগসন্ধিক্ষণে আবির্ভাব ঘটল আলফ্রেড হার্মসওয়ার্থ-এর, যিনি 'হাফপেনি মার্ভেল’ ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে শুরু করেন, এই "দ্য হাফপেনি মার্ভেল" এর পাঁচ নম্বরের ইস্যুতে সম্পাদক ঘোষণা করেছিলেন যে পরের সংখ্যায় আসছে এক নতুন গোয়েন্দা , এইভাবে আবির্ভূত হলেন সেক্সটন ব্লেক। প্রথম গল্পটি লিখেছিলেন হ্যারি ব্লেথ ( Harry Blyth), হ্যাল মেরিডিথ (Hal Meredeth) ছদ্মনামে ! এই নতুন গোয়েন্দা পাঠকশ্রেণীর খুব আনুকূল্য পায় এবং সেক্সটন ব্লেকের গল্প চলতে থাকে পরবর্তী প্রায় একশো বছর ধরে, গল্প উপন্যাস কমিক স্ট্রিপ এমনকি সিনেমা পর্যন্ত অনেক লেখকের হাত ধরে। ব্লেক বুদ্ধিমান, তার সবসময়ের সংগী তার সহকারী টিনেজার টিংকার আর একটা ভয়ানক কুকুর। অত্যন্ত গতিশীল, বুদ্ধির পরীক্ষা নেয় ব্লেকের গল্প। শার্লক যেমন শহুরে পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, সেক্সটনও কিন্তু খুব একটা পিছিয়ে ছিল না। লন্ডন ও তৎসংলগ্ন কান্ট্রিসাইডে সেক্সটন ব্লেকের জনপ্রিয়তা ছিল শিখরে। পরবর্তীকালে সেক্সটনের জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে অন্যান্য অনেক ভাষার সাথে সেক্সটন ব্লেক অনূদিত হতে থাকেন আরবী এমন কী হিন্দিতেও।
এই বার বাংলায় সেক্সটন অনূদিত হয়ে এলেন বইরাগ প্রকাশনীর হাত ধরে। আমাদের এইখণ্ডে ব্লেকের ১০টি গল্প রয়েছে যা মূলত 1908 এবং 1909 সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
অনুবাদ করেছেন অর্চন চক্রবর্তী।
শেষ বৃষ্টির পর

শেষ বৃষ্টির পর
শ্রাবণের শেষ বিকেলে, যখন বৃষ্টি আর বাতাসে ভিজে ওঠে চারদিক, ঠিক তখনই যেন কেউ ধীরে ধীরে জেগে ওঠে—অতীতের ভেজা স্মৃতি, অচেনা টান, আর অমোঘ আকর্ষণ। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সেই কবিতার আবহ যেন হঠাৎ বাস্তব হয়ে দাঁড়ায় মাঠকোঠার দরজায়—একজন অপেক্ষমাণ মানুষের ছায়ায়।
কলেজে প্রথম দেখা হয়েছিল ঋত্বিক আর অর্পিতার। একজন তীক্ষ্ণ-দৃষ্টির সাংবাদিক, অন্যজন শান্ত অথচ দৃঢ়স্বভাবের শিক্ষিকা। কথার পর কথা, চোখের পর চোখ—মন দেওয়া-নেওয়ার সেই নরম সময়টুকু যেন বৃষ্টির মতোই স্বাভাবিকভাবে নেমে এসেছিল তাদের জীবনে।
কিন্তু বৃষ্টি যেমন থেমে গেলে রেখে যায় ভেজা মাটি আর অদৃশ্য দাগ, তেমনি তাদের সম্পর্কেও কি জমে উঠেছিল কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন?
শেষ বৃষ্টির পর কী রয়ে গেল—অপেক্ষা, অনুতাপ, না কি নতুন কোনো শুরু?
মনোরঞ্জন গরাইয়ের **‘শেষ বৃষ্টির পর’**—একটি গল্প, যেখানে শ্রাবণ শুধু ঋতু নয়, অনুভূতিরও পুনর্জন্ম। পড়তে শুরু করলে মনে হবে, বৃষ্টির ফোঁটা যেন পাতার ওপর নয়, সরাসরি হৃদয়ে পড়ছে।
শরশয্যা

শরশয্যা
মহাভারতে কৃষ্ণ এক অদ্ভুত চরিত্র।গোটা মহাভারত জুড়েই তাঁর বিচরণ। যেন মনেহয় সবকিছুই তাঁর অঙ্গুলি হেলনে ঘটছে। সুজন ভট্টাচার্যের ‘শরশয ্যা’ও সেই প্রতিফলন থেকে মুক্ত নয়। দ্রৌপদী ও কৃষ্ণের সম্পর্কের নতুন ব্যাকরণ এনেছেন। এসেছে শকুনির অভিলাষ-যা মহাভারতের যুদ্ধের এক বিশেষ কারণ। এসেছেন কৃষ্ণ ও ভাগ্যহত বীর কর্ণ। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বন্ধ করতে মৃত্যুপথযাত্রী পিতামহের কাতর আবেদন নাকচ হয়েছে। শেষ বেলায় শিখণ্ডীর আগমন ভীষ্মের চরিত্রের আরেকদিক উন্মোচন করে।
অবিচ্ছেদ্য

অবিচ্ছেদ্য
কৈশোরের দিনগুলো সবসময় কি সোনাঝরা হয়? কিশোরী থেকে নারীত্বে উত্তরণের গল্প আসলে কখনোই ঠিক সাধারণ হয় না। বিশেষতঃ যদি বাবা মা'র সম্পর্ক জটিল হয়ে থাকে। এই লেখা মেঘনার জীবনের মেঘ সরিয়ে মোহনাতে যাত্রার গল্প, যেখানে নদী মেশে সাগরে। এমনই একটি বেড়ে ওঠার মেয়েবেলার গল্প বিবৃত হয়েছে এখানে!
রঙ্গমঞ্চ

রঙ্গমঞ্চ
গিরিশচন্দ্র,বিনোদিনী, অমৃতলাল, শিশির ভাদুড়ি, শম্ভু মিত্র, বাংলার নট-নটীদের পরম্পরা সুদীর্ঘ , রঙ্গমঞ্চ শব্দটার উৎপত্তি ও অনেককালের তবে বর্তমানে তা জুড়ে যায় স্টার, মিনার্ভা ইত্যাদির সাথে যেগুলোর অস্তিত্ব আজ আর হয়তো আর নেই কোথাও ।
এই উপন্যাসে আসলে রঙ্গমঞ্চও একটি চরিত্র , আর আছে নাট্যপ্রেমী শৈলেশ, আছে দেহপোজীবিনী নীহার , শৈলেশের সঙ্গে যার পরিচয় হয় এই রঙ্গমঞ্চের সূত্রেই , আর জীবন নাটক গড়াতে থাকে।
এই উপন্যাসের সময়কাল ও পুরাতন , গিরিশ ঘোষের যুগ শেষ হয়েছে তখন। চলছে শিশির-অহীন্দ্র যুগ। সাধারণ লোকে যেমন ভাবে , এই নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত লোকজনের জীবন কি শুধুমাত্র সুরার গন্ধ আর অবৈধ সম্পর্কের রসায়নে ভরপুর? নাকি এর পেছনে রয়েছে অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও অক্লান্ত পরিশ্রমও ? এই উপন্যাসে শৈলেশ নীহারের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরতে চেয়েছেন রঙ্গমঞ্চের যবনিকার অন্তরালের ছবি ।




