উপন্যাস
কৃত্রিম আকাশে সত্যের খোঁজ

আজকের কিশোর-কিশোরীদের জীবন প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগের আলোকে ঘিরে বেড়ে উঠছে। তারা প্রতিদিন স্ক্রিনে সংযুক্ত থাকে, সামাজিক প্ল্যাটফর্মে নিজের পরিচয় তৈরি করে, ভিউ, লাইক, কমেন্ট এবং ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন করে। কিন্তু কি স্ক্রিনের আয়নায় থাকা ব্যক্তিই সত্যিকারের তুমি? কি সংখ্যা দিয়ে মাপা যায় তোমার আত্মসম্মান? এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় “কৃত্রিম আকাশে সত্যের খোঁজ” উপন্যাস।
চার ইয়ারি কথা

ঘড়িতে রাত দশটা ! ঝড়বৃষ্টি আসবার আশু সম্ভাবনা ! কে সমস্ত আকাশটিকে একখানি একরঙা মেঘের ঘেরাটোপ পরিয়ে দিয়েছে, এবং সে রং কালোও নয়, ঘনও নয়; কেননা তার ভিতর থেকে আলো দেখা যাচ্ছে। ছাই-রঙের কাচের ঢাকনির ভিতর থেকে আলো দেখা যায়, সেইরকম আলো। আকাশ-জোড়া এমন মলিন, এমন মরা আলোতে বাইরে যা-কিছু আছে, সব কিরকম নিস্পন্দ, নিস্পন্দ, নিস্তব্ধ হয়ে গেছে; যা জীবন্ত তাও মৃতের মত দেখাচ্ছে; বিশ্বের হৃৎপিণ্ড যেন জড়পিণ্ড হয়ে গেছে, তার নিশ্বাসরোধ হয়ে গেছে, রক্ত-চলাচল বন্ধ হয়েছে; মনে হচ্ছে যেন সব শেষ হয়ে গেছে যেন আর এক পৃথিবীর আর এক আকাশ;-দিনের কি রাত্তিরের বলা শক্ত।
এ আলোর স্পর্শে পৃথিবী যেন অভিভূত, স্তম্ভিত, মূৰ্জিত হয়ে পড়েছিল। চারপাশে তাকিয়ে দেখি,গাছ-পালা, বাড়ী ঘর-দোর, সব যেন কোনও আসন্ন প্রলয়ের আশঙ্কায় মরার মত দাঁড়িয়ে আছে ! পৃথিবীর উপরে সে রাত্তিরে যেন শনির দৃষ্টি পড়েছিল।
আর এরকম পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছে চার ইয়ার। সেন, সীতেশ, সোমনাথ এবং আমি।
সেন বল্লেন—”যেরকম আকাশের গতিক দেখছি, তাতে বোধ হয়। এখানেই রাত কাটাতে হবে।”
কি ঘটলো সেই রাতে? চেনাজানা পরিধি ছাড়িয়ে চার ইয়ার কি অন্য কিছুর স্পর্শ পেলো ? পড়ুন প্রমথ চৌধুরীর অনবদ্য গ্রন্থ -চার ইয়ারি কথা।
আবার এসো ফিরে

যে জীবন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ, তার বাইরেও থাকে এক অলিখিত জীবন—স্বপ্নের, সম্ভাবনার, এবং কল্পনার। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন যেমন এক দীপ্তিমান প্রদীপ, তেমনি এই গ্রন্থে তিনি হয়ে উঠেছেন এক কাব্যিক চরিত্র, যাঁর অন্তরঙ্গতা, দ্বন্দ্ব, এবং নিঃসঙ্গতা আমাদের নতুন করে ভাবায়।
এই বই কোনো তথ্যভিত্তিক জীবনচরিত নয়, বরং এক সাহিত্যিক অন্বেষণ—যেখানে বিদ্যাসাগর কেবল সমাজ সংস্কারক নন, তিনি এক কবি, এক প্রেমিক, এক নিঃসঙ্গ পথিক। তাঁর চোখে জ্বলছে যুক্তির দীপ্তি, কিন্তু হৃদয়ে বাজছে আবেগের মৃদু সুর। তাঁর পদচারণা যেন এক দীর্ঘ গদ্যকবিতা, যেখানে প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে এক নতুন বাংলার স্বপ্ন।
এই কাল্পনিক জীবনীর প্রতিটি অধ্যায় যেন এক গল্প, এক কবিতা, এক নাট্যাংশ—যেখানে ইতিহাসের ছায়া আছে, কিন্তু আলোটা সম্পূর্ণ সাহিত্যিক। পাঠক, আপনি যখন এই বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো উল্টাবেন, তখন আপনি শুধু একজন মনীষীকে নয়, বরং এক চরিত্রকে আবিষ্কার করবেন—যিনি আমাদের মতোই মানুষ, কিন্তু আমাদের চেয়ে অনেক বেশি স্বপ্নদ্রষ্টা।
গোলপোস্টের এপার ওপার

রাসেল এবং মাইকেল ক্ল্যাডিয়াস দুই ভাই। রাসেল কলকাতার এক নামী ফুটবল দলের অতিদামী গোলরক্ষক। আর মাইকেল তাদের বাবার মতোই হকি প্লেয়ার। কলকাতা মাঠে। তাদের বাস বো ব্যারাকে। বাবা সরকারী আধিকারিক, মা প্রতিষ্ঠিত স্কুলের শিক্ষয়ত্রী।
ফুটবল পাগল সুজাট রাসেলের বান্ধবী-কাম-প্রেমিকা । আর মাইকেল সুজাটের ছোট বোন, মিলাটকে ততোধিক ভালবাসে; যতখানি কিনা মিলাট তা অমূল্য মনে করে না। সে শহরের এক নামী র্যাপ-ড্যান্সার। উচ্ছল , প্রাণবন্ত বন্ধুপ্রিয় যুবতী। তাদের বাবা শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। মা গৃহবধূ।
অতি গুরুত্বপূর্ণ বছরের শেষ খেলায় প্রতিপক্ষের খেলোয়ারের জোড়াল এক গড়ানো শটে রাসেল পরাজিত হয় এবং তাতে ক্লাব তো ক্লাব, তারও বদনাম রটে, সে কিনা অর্থের বিনিময়ে গোল ছেড়ে দিয়েছে। বিশাল অঙ্কের পারিতোষিক হাত ছাড়া হয় ক্লাবের। ক্লাব তাকে সাসপেন্ড করে।
এই পরাজয় নিয়ে সুজাটের অভিমান, মন কষাকষি। যা রাসেলকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দেয় এবং তার ফুটবল জীবনের সমাপ্তিতে পর্যবসিত হবার উপক্রম হয়। সেখান থেকে সুজাটই তাকে উদ্ধার করে। সম্পূর্ণ নিজের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রচেষ্টা এবং স্বীয় জীবনের ক্ষতি স্বীকার করেও। বিদেশে নিয়ে গিয়ে বিচক্ষণ চিকিৎসা এবং পুনরায় গোলরক্ষকের ট্রেনিং প্রাপ্ত করিয়ে রাসেলকে খ্যাতনামা গোলকিপারে পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেওয়ায়।
তার সাহা্য্যে এগিয়ে এসেছে সুজাট-মিলাট এবং রাসেল-মাইকেলের পুরো পরিবার। বিশেষ করে র্যাপ ডান্সে প্রতিষ্ঠিত মিলাট ক্লডিয়াস। এবং তা করতে গিয়ে মিলাটের জীবনেও দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে যা থেকে তাকে উদ্ধার করে মাইকেল, নিজের জীবনীকে বাজী রেখে। এর পরেও কিন্তু মিলাট নারী-বুভুক্ষু এই পুরুষ প্রাধান্য সমাজের কাছে হার মানে। কেন, কিভাবে, কখন? -এই কাজে মিলাটের অবদান কি- সব জানতে গেলে পড়তে হবে দেশ-বিদেশের ঘটনাবহুল নানান কাহিনীতে সমৃদ্ধ সম্পূর্ণ উপন্যাসটি।
শেষ বৃষ্টির পর

শ্রাবণের শেষ বিকেলে, যখন বৃষ্টি আর বাতাসে ভিজে ওঠে চারদিক, ঠিক তখনই যেন কেউ ধীরে ধীরে জেগে ওঠে—অতীতের ভেজা স্মৃতি, অচেনা টান, আর অমোঘ আকর্ষণ। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সেই কবিতার আবহ যেন হঠাৎ বাস্তব হয়ে দাঁড়ায় মাঠকোঠার দরজায়—একজন অপেক্ষমাণ মানুষের ছায়ায়।
কলেজে প্রথম দেখা হয়েছিল ঋত্বিক আর অর্পিতার। একজন তীক্ষ্ণ-দৃষ্টির সাংবাদিক, অন্যজন শান্ত অথচ দৃঢ়স্বভাবের শিক্ষিকা। কথার পর কথা, চোখের পর চোখ—মন দেওয়া-নেওয়ার সেই নরম সময়টুকু যেন বৃষ্টির মতোই স্বাভাবিকভাবে নেমে এসেছিল তাদের জীবনে।
কিন্তু বৃষ্টি যেমন থেমে গেলে রেখে যায় ভেজা মাটি আর অদৃশ্য দাগ, তেমনি তাদের সম্পর্কেও কি জমে উঠেছিল কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন?
শেষ বৃষ্টির পর কী রয়ে গেল—অপেক্ষা, অনুতাপ, না কি নতুন কোনো শুরু?
মনোরঞ্জন গরাইয়ের **‘শেষ বৃষ্টির পর’**—একটি গল্প, যেখানে শ্রাবণ শুধু ঋতু নয়, অনুভূতিরও পুনর্জন্ম। পড়তে শুরু করলে মনে হবে, বৃষ্টির ফোঁটা যেন পাতার ওপর নয়, সরাসরি হৃদয়ে পড়ছে।
টুয়েন্টি ইয়ার্স আফটার - আলেকজান্ডার দ্যুমা

১৬শ র শতকের মাঝামাঝি ইউরোপীয় রাজনীতিতে যখন ক্যাথলিক ফ্রান্সকে গ্রাস করার জন্য চারিপাশ থেকে নানান দেশ ওৎ পেতে বসে ছিলো, তখন ফ্রান্সকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ সম্বল হিসাবে ত্রয়োদশ লুইয়ের সাথে অ্যন অফ অসট্রিয়ার বিবাহ ও কার্ডিনাল রিচলুর শরণ ও খুব একটা কার্যকরী হয়ে উঠলো না। কার্ডিনাল রিচলুর কঠোর বাস্তববোধের সামনে রাজা ত্রয়োদশ লুইয় নাস্তানাবুদ হয়ে তাঁর হাতের পুতুল হয়ে উঠলেন। কিন্তু "থ্রি মাস্কেটিয়ার্স" ঘটনাকে নিয়ে গিয়েছিলো অন্যদিকে।
"টুয়েন্টি ইয়ার্স আফটার"— আলেকজান্ডার দ্যুমা তাঁর কালজয়ী "থ্রি মাস্কেটিয়ার্স" চরিত্রগুলিকে কুড়ি বছর পর আবার ফিরিয়ে এনেছেন, কিন্তু এবার তারা আগের মতো তরুণ, বেপরোয়া নয়—তারা পরিণত, দ্বিধাগ্রস্ত, এবং ইতিহাসের এক সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। সময়টা এখন ১৬৪৮-১৬৪৯। বকলমে ফ্রান্সের সর্বেসর্বা কার্ডিনাল রিচলু আজ কেবলমাত্র তাঁর পূর্বের ক্ষমতার এক ক্ষীণ ছায়ায় পরিণত হয়েছেন। ইউরোপীয় রাজনীতির যাঁতাকলে ফ্রান্সের ভবিষৎ পিষে দেওয়ার জন্য চারিধার থেকে বিভিন্ন দেশ চিল- শকুনের মত ওৎ পেতে আছে। ত্রয়োদশ লুই এর মৃত্যু হয়েছে, কার্ডিনাল রিচলুর ও স্বর্গবাস হয়েছে। ফ্রান্সের কিশোর রাজা চতুর্দশ লুই নাবালক হওয়ায় রাজ প্রতিনিধিত্ব করছেন এন অফ অস্ট্রিয়া। কিন্তু তাকে নেপথ্যে চালনা করছেন কার্ডিনাল মার্জারিন। ডার্টেনান এখন মাস্কেটিয়ারদের প্রধান, তার বাকি তিন সঙ্গী অবসরপ্রাপ্ত। অ্যাথস একজন সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তি কমটে দে লা ফের নামে পরিচিত, নিজের সুপুত্র রাউল দে ব্রাগলন এর সাথে থাকেন। আরামিস, প্রকৃত নাম দে আর্বলে, যুদ্ধ বেশ ত্যাগ করে ধর্মের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং পর্থস একজন ধনী মহিলাকে বিবাহ করেছেন।
আবার ঘনিয়ে ওঠে নানা ঘটনা, "থ্রি মাস্কেটিয়ার্স" কি পারবে ঘটনাকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে?
দ্যুমার এই কালজয়ী বইটিকে পড়ুন বাংলাতে, অনুবাদ করেছেন পৌলমী চক্রবর্তী!
চারণিক

মনীষীদের জীবন, সাধনা, কর্ম বিশেষত জীবনী আকারে বিবৃত করে থাকেন বিশিষ্ট জনেরা। সেরকমই এক যুগাবতার, স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে বহু জীবনীকার একাধিক গ্রন্থ রচনা করে গেছেন যেগুলি সম্পূর্ণরূপে আকর গ্রন্থ। সেসব গ্রন্থ সহজলভ্য হলেও বহু পাঠকের কাছে তার পঠন অনেকটাই ভারী হয়ে ওঠে। এমন ক্ষেত্রে উপন্যাস লেখকরা প্রকৃত তথ্য ও তত্ত্বকে অবিকৃত রেখে মনীষীর জীবন সরণি বেয়ে নিজেদের কল্পনাকে মিশিয়ে যে উপন্যাস পাঠকের সামনে তুলে ধরেন, তাতে পাঠকের পক্ষে ওই মনীষীকে জানা কিছুটা সহজ হয়ে ওঠে এবং জীবনী পাঠে পাঠককে আগ্রহী করে তোলে।
স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে এমনই এক উপন্যাস, ‘চারণিক, স্বামী বিবেকানন্দের পরিব্রাজক জীবনের অত্যাশ্চর্য কাহিনি’ রচিত হয়েছে। যেখানে গুরু গম্ভীর তথ্য ও তত্ত্বের ভান্ডার না যোগ করেও স্বামীজি পরিচয়ের আড়ালে কাছের মানুষ বিবেকানন্দকে পরিচয় করানো হয়েছে।
এ সত্য সকলেরই জানা , বিবেকানন্দ অত্যন্ত স্বল্পায়ু ছিলেন। ৩৯ বছর ৫ মাস ২৪ দিনের জীবনের মাত্র আটটি বছরকে এই উপন্যাসে ধরা আছে। সময় কাল ১৮৮৬ থেকে ১৮৯৩। ওনার ২৪ বছর বয়স অর্থাৎ রামকৃষ্ণ সঙ্ঘ স্থাপনার সময় থেকে ৩১ বছর যা শিকাগো বক্তৃতা দানের সময়, এই সময়টুকুতে স্বামীজির পর্যটক হয়ে ভারত ভ্রমণের যা যা কর্মকাণ্ড, সেটুকুই বিধৃত হয়েছে।


