বাংলা ই-বই
মরমিয়া

মরমিয়া আসলে একটি মুক্তগদ্যে লেখা নিভৃত দিনলিপি, যেখানে প্রকৃতির মোহময়তায় লেখক বিলীন হয়ে যান। এই গ্রন্থে লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃতি চেতনা আর জীবনানন্দ দাশের সুররিয়ালিজমের সার্থক মেলব ন্ধন ঘটিয়েছেন অনুপম ব্যঞ্জনায়। এই বর্ণনার নিজস্ব একটা ভাষা আছে। এই ভাষা কখনো বা ইমন কল্যাণের সুরে বিষাদের বাঁশির মতো হৃদয়স্পর্শী; কখনো বা রাতজাগা কোনো পিউকাঁহা পাখির হাহাকারের মতো মর্মন্তুদ। প্রকৃতির এক অনন্ত সৌন্দর্য ভান্ডার থেকে এভাবেই বিরহ দিনের শব্দ কুড়িয়ে দিনযাপনের মালা গেঁথেছেন লেখক।
মাকাল সাহেব

“আসার রাস্তা যেমন ফুরোতে চায় না, ফেরার রাস্তা ঠিক উল্টো। বৃষ্টি আসবে? অনন্ত একবার উপরে মুখ তুলে দেখে।
ভেজাবে নাকি হে আমাকে! ভেজাও, ভেজাও। অনন্তর সর্বাঙ্গ যে পুড়ে গেল হে তোমার নাটকের জুড়িদারি করে। তার বুক নাই, মন নাই, অন্তরে খাঁ খাঁ শুধু তুমি তাকে নদীর উছালে উছালে ভাসিয়ে বেড়ালে বলে। রুখাসুখা মাটিকে এইবারে খানিক ভেজাও হে; নইলে কিসের ভরসায় বসে থাকে সে!
এইপাড়ে নাই হোক, অন্তত ওইপাড়ে ঘর অনন্ত বসাবেই। …..”
- এক বহমান জীবনের গল্প মাকাল সাহেব।
স্বপ্নের সোপান

স্বপ্নের সোপান’ মনোরঞ্জন গরাই-এর তিনটি গল্প সংকলন “স্বপ্নের সোপান”, “অপরাজিত” ও “সৃষ্টির মিস্ট্রি” থেকে সংকলিত ছোটোগল্পের সমাহার। গল্পগুলো শিশুকিশোরদের ভাল লাগবে। গল্পের কোথাও কোথাও লেখক তাদের বেড়ে ওঠার সময়ে যে মানবিকতা, নৈতিকতাসহ অন্যান্য গুণাবলির প্রয়োজন রয়েছে সেকথাও ছড়িয়ে রয়েছে। আশা করা যায় পাঠক-পাঠিকাদের ভালো লাগবে।
হৃদয়ের তরবারি, মৃত্যু দাঁড়ালে

অসীম দাস, জন্ম ১৯৫৯ সালে, ২৪শে ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে। বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম টেক করে চাকরী জীবনে প্রবেশ। কিন্তু আদতে তিনি কবি। এই বদলে যাওয়া সময়েও জীবনের অনেক ধ্রুবক আজ ধ্রুব ই আছে , তারই ছোঁয়া পাবেন পাঠকেরা এই কবিতা সংকলনে।
অপরিচিত এবং ...

অনেক আগে মোগল-পাঠানদের আমলে বর্ধমানের নাম লোকের মুখে মুখে ফিরত। যে রাজা রাজবল্লভ সেনের সাম্রাজ্য একদিন গৌড়-বঙ্গের ইতিহাসকে দাপট ও কৃতিত্বের সাথে শাসন করে গেছে তাকে বঙ্গালের মানুষ আজ ভুলতে বসেছে। ইতিহাসের পালাবদল প্রতিটি প্রজন্মান্তরে একবার বদলে গেলেও তার শিকড়ের টানটি অন্তত চিরকালীন। সেন রাজাদের রাজবংশ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম দিকের মধ্যযুগীয় একটি হিন্দু রাজবংশ হিসাবেই বিখ্যাত ছিল, যার সুনাম বঙ্গদেশের মাটীতেও একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত একদা বজায় ছিল।
আজ সে সব প্রাচীন ইতিহাস গৌড়-বঙ্গের আকাশে বাতাসে কান পাতলে শোনা যাবেনা। এমনকি ৯০০ শতকেরও পূর্বে তখন বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক পাল রাজাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে করতেই একদিন গোলকপতির এই বীরাচারী পূর্বজরা মিলে প্রতিষ্ঠিত পাল রাজাদেরকে পরাজিত করে প্রখ্যাত শশাঙ্কদেব শাসিত গৌড়ের মাটিতে সেদিন সেন বংশের তরবারিকে প্রোথিত করেন। সেই সময়েরই একটি ঐতিহাসিক কাহিনী এটি।
পঞ্চবান

বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল অঙ্গনে পঞ্চবান আজ মৌলিক কাব্য ঘরানা হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবেই বহু কবির কলমে সমৃদ্ধ। সারা বিশ্বে ২০২০ সালে পঞ্চবান কাব্য সৃষ্টির পূর্বে পাঁচ লাইনের কোন পূর্ণাঙ্গ কবিতা ছিল না। মজাদার ছড়া হিসেবে লিমেরিক ছিল তার প্রথম দ্বিতীয় ও পঞ্চম লাইনের অন্তমিল ও তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন একটু ছোট আকারে অন্তমিল করে। কিন্তু পঞ্চবান কবিতা একদমই একটি নির্দিষ্ট রীতির ওপর দাঁড়িয়ে কবির কলমের উদ্ভাবনী শক্তির ওপর তার পূর্ণাঙ্গ কবিতার ডালি সাজিয়ে পাঁচটি লাইনে, প্রতি লাইনে পাঁচটি শব্দ ব্যবহার বজায় রেখে কখনও পদ্যে, গদ্যে বা কখনও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মাত্রা বিন্যাস করে প্রেম, বিরহ, ভালবাসা, প্রতিবাদ, আতঙ্ক, বাস্তবতা, প্রকৃতি, সচেতনতা, পরিবেশ প্রভৃতি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বার্তা বহন করে নামকরণ সহ একটি সুন্দর সুখ পাঠ্যকর সমৃদ্ধ কবিতা তার পাঠকদের উপহার দিয়ে চলেছে। পঞ্চবান নামের মধ্যেই বান অর্থে তার প্রবাহমান দিক বা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর উন্মুক্ত চিন্তা পূর্ণাঙ্গ কবিতার সঠিক দিশা দেখিয়ে চলেছে।
এরকমই কিছু কবিতার সংকলন এটি।
অন্ধকার নামছে

ভয় কী? ভয় কি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, নাকি পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক? মানুষ আসলে ভয় পায় কেন? কী কী জিনিসে বা কী কী কারণে ভয় পায় মানুষ ?
অশুভ কোনও অজানা আশঙ্কা থেকে 'ভয়'–এর সৃষ্টি। কিন্তু মানুষ মাত্রেই অন্ধকারকে ভয় পায়, অস্বস্তি বোধ করে, মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এর মূল কারণ আমাদের জিনে মিশে আছে প্রাচীন অন্ধকার, আদিম অন্ধকারে বসবাসের অভিজ্ঞতা।
সৃষ্টির ঊষালগ্নে মানুষ ছিল বড় অসহায়। গুহা বা অন্য প্রাকৃতিক আধারে তাদের নিতে হত আশ্রয়। কিন্তু আগুনের আবিষ্কার সবকিছু বদলে দিল। আগুন অজানা অন্ধকারকে চিনতে সাহায্য করল। সভ্যতা এগোল। তার সাথে সাথে এগোল মানুষের চিন্তাভাবনা, মানুষ আরও পরিণত হতে থাকল। মানুষ কল্পনা করতে শিখল, অব্যাখ্যাতক লৌকিকতার ঊর্ধ্বে উঠে বুঝে নিতে চাইল। গল্প-কাহিনিরা জন্ম নিল। তার হাত ধরাধরি করে এল সাহিত্য। আর সাহিত্যের একটা বড় অংশ অধিকার করে থাকল ভয়, ভয়ের গল্প, ভূতের গল্প, অলৌকিক গল্প। আসলে, এই বিশ্বচরাচর - সৃষ্টির আদিম কথাটাই হল ভয়। সমস্ত প্রাণী জগতের অন্তরের মর্ম জগতে অবস্থান করে ভীতি।
এই রকম গল্প পড়ার অভিজ্ঞতাই আলাদা, আর সেইসব গল্প যদি হয় বিশ্বের খ্যাতনামা সাহিত্যিকদের, তাহলে তো সোনায় সোহাগা!
বাছাই করা বিশ্ব সাহিত্যের প্রতিনিধিত্বমূলক কিছু অন্ধকার গল্পের অনুবাদ করেছেন মিতা ঘোষ। 'অন্ধকার নামছে' - সেই অনুপম গল্পগুলির বাংলা সংকলন।
ফেলুদা ২

ফ্যান ফিকশন ধারণাটা বাংলাসাহিত্যে যে খুব নতুন তা আর বলা যাবে না, এখন তা বেশ ভালই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাঙালী পাঠককূলে সবথেকে বেশী জনপ্রিয় গোয়েন্দাচরিত্রগুলোর অন্যতম ফেলুদা, তাকে নিয়ে এর আগেও একটি ফ্যানফিকশন লিখেছেন এই লেখক, সেই লেখা পাঠকমহলে সমাদৃত হওয়ার পর এবার এলো আরো দুটি বড় গল্প ফেলুদাকে নিয়ে।
যুদ্ধের সহস্র বছর পর



