বাংলা ই-বই
প্রবাসে দৈবের বশে

প্রবাসে দৈবের বশে' সাতটি ছোট গল্পের সংকলন। এক প্রবাসী বাঙালী, অনুষ্টুপের সফরনামা। তার জীবন, তার পরিবার, সম্পর্কের ভাঙা গড়া, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, এই সবকিছু নিয়েই লেখা এই ধারাবাহিক।
গল্পের সূত্রপাত অনুষ্টুপের মধ্যবিত্ত পরিবারে। অনুষ্টুপ সাহিত্যিক হতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবার আর সমাজের চাপে সে ইচ্ছায় জলাঞ্জলি দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পরে পারিবারিক ইচ্ছায় উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রা করে। নিজের অনিচ্ছায়, স্বজনদের থেকে দূরে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে হতাশা গ্রস্ত অনুষ্টুপের ঘুরে দাঁড়ানো এবং সবকিছু আবার নতুন করে, অপ্রত্যাশিত এবং অন্যরকম ভাবে ফিরে পাওয়ারই গল্প 'প্রবাসে দৈবের বশে'।
বন্ধুতা

যদিও এ উপন্যাস অন্য লেখাগুলোর মতই তবে মূলগত পার্থক্য আছে। জীবন্ত কোন চরিত্র নিয়ে সাধারণত: লেখা চোখে পড়ে না। সেদিক থেকে এটাকে ব্যতিক্রমী লেখা বলা যেতে পারে , আমার বন্ধু গদাই কে নিয়ে এই লেখা। বাস্তব কে সামনে রেখে লেখা সহজ নয়। এটাকে পরীক্ষামূলক লেখা বলা যেতে পারে। এ অনেকদিন আগের লেখা। আজ যখন মন ভালো নেই তখন শুধু কিছুক্ষণ তাজা হাওয়ার জন্য আবার সবার হাতে তুলে দিচ্ছি।
বাঙ্গালীর মস্তিষ্ক ও তাহার অপব্যবহার

কোন জাতির গৌরব ও মহত্ত্ব নিরূপণ করিতে হইলে, কি কি উপাদানে এই মহত্ত্ব গঠিত সর্বাগ্রে তাহারই পৰ্য্যালোচনা করিতে হইবে। আমার বোধ হয়, ভূদেব ও বঙ্কিমচন্দ্রের লিখিত অভিমতের উপর নির্ভর করিয়া যাহারা বাঙ্গালীর, এমন কি, হিন্দু জাতির গৌরবের শ্লাঘা করিয়া থাকেন, তাহারা অজ্ঞাতসারে ভ্রান্ত অভিমত পাের্ষণ করেন মাত্র। রঘুনন্দন ও কুল্লুকভট্টের টীকা টিপ্পনী শ্লাঘার বিষয় জ্ঞান করিয়া যদি উহারই আদেশ অভ্রান্ত সত্য মানিয়া, সেই অতীতপ্রায় কূট শিক্ষায় মনােনিবেশ আমাদের গৌরবের বিষয় বলিয়া অনুমিত হয়, আর বর্তমানের নূতন আশা, নুতন উদ্দীপনা ঠেলিয়া ফেলিয়া প্রাচীনের প্রচলন শান্তির ধীর কৰ্ম্ম বলিয়া আদৃত হয়, জানি না এ মৃতপ্রায় জাতি নূতনের প্রবল অসহনীয় সংঘর্ষে আর কত দিন বাঁচিতে সক্ষম হইবে !
বাচিকের কন্ঠস্বরে নির্বাচিত শতক

কবিতা বাচিক শিল্পের পরিধিতেই আবদ্ধ নয়,কবিতা বৈশ্বিক,কবিতা হল কবি আর পাঠকের মধ্যের সেতু রচয়িতা। আবার জ্ঞান সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রাচীন অবলম্বন হচ্ছে আবৃত্তি। আবৃত্তি হচ্ছে শিল্পীর স্মৃতির ধারাবাহিক সবাক চিত্র। শিল্পী যে কাজ করেন রঙ দিয়ে, কবি যে কাজ করেন শব্দ দিয়ে, আবৃত্তি শিল্পী সে কাজ করেন কণ্ঠস্বর দিয়ে। আবৃত্তিকারের নিজস্ব আবেগ, অনুভব, মেধা, মনন, বোধ ইত্যাদির সমন্বিত প্রয়োগে উচ্চারণের বিশুদ্ধতা রক্ষা করে কবিতার অন্তর্নিহিত মর্মার্থের বাচিক উপস্থাপনাই হচ্ছে আবৃত্তি - এ সব কথা আমরা জানি ও বুঝি। তাই বাচিক শিল্পের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবশ্যই কবিতা।
এই কবিতাগুলি নানা সময় পাঠ করেছেন নানা বাচিক শিল্পী। তাই এই একশোটি কবিতাকে দুই মলাটের মধ্যে আনার সময় "বাচিকের কন্ঠস্বরে নির্বাচিত শতক" নামটিই যথাযথ বলে মনে হল ।
বাকি সবকিছু পাঠকের ওপরে ছেড়ে দিলাম।
বাড়িঘর

বাড়িটা আসলে কার- যার জমি না যার ইট বালি সিমেন্ট অজিত ঘোষাল ভেবে ভেবে কোনো কূল কিনারা পান না। বাড়ি করতে শুধু ইট, কাঠ, বালি ছাড়াও যে স্বপ্ন লাগে— সেই স্বপ্ন টুকু শুধু তাঁর।
মেয়েদের কি ঘর হয়। ঘরের ঘেরাটোপে আর রাষ্ট্রের উঠোনে সন্ত্রাসের চেহারা পাল্টায় না। সে জেনেছে সম্প্রদায়বোধ কিভাবে সৃষ্টি হয়, কিভাবে হঠাৎ জেগে ওঠে একটি জাতিসত্বা। এর প্রথম প্রক্রিয়াই বিচ্ছিন্নকরণ। মানুষকে যখনই বহুত্বের অস্তিত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, সামনে লোভনীয় কোনো গাজর ঝুলিয়ে, তখনই সে একাকী, কোণঠাসা, সন্দিগ্ধ এবং হিংস্র। এই বিচ্ছিন্নতা কোনো নির্জন এককের গানের জন্ম দেয় না, দেয় না সাধকের মগ্নতা। বৃহতের শুভবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ কেবলই হিংসা ছড়ায়।
তবুও বাড়িঘর শব্দটি নারীর বুকে জাগায় এক আশ্চর্য দ্যোতনা। সে সব নিয়েই এই গল্প।
বিষাদ-সিন্ধু

'বিষাদ-সিন্ধু' উপাখ্যানটি নানাভাবে পাঠ করা যায়। এতে ইতিহাস আছে মনে করে বা, এতে ধর্মীয় পুরাণ মিশ্রিত, সেই আগ্রহে। বিষাদ-সিন্ধুর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ঘটনাসমূহ। বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলির সন্ধান ইতিহাসে পাওয়া যায়, কিন্তু কোনো কোনো অপ্রধান চরিত্রের উল্লেখ বা সন্ধান ঐতিহাসিক কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। এটি কাব্যিক শৈলীতে রচিত এবং এতে অনেক নাটকীয় পর্ব রয়েছে। বইটি শুধু কারবালা-র যুদ্ধের ঘটনা কেন ঘটে তা বুঝে নিতেই সাহায্য করে না, ইমাম হোসেনের মৃত্যুর ফলে যে সকল ঘটনা ঘটেছিল তারও বর্ণনা রয়েছে এ গ্রন্থে। এই ঐতিহাসিক উপন্যাসে বিষাদ-সিন্ধুর বিষাদ কোন ধরনের বিষাদ তা যেমন বোঝা যায় তেমনই উপন্যাসের চরিত্রচিত্রণ, মানবজীবনের দুঃখ-যন্ত্রণা, হিংসা-বিদ্বেষ,ইতিহাসের পটভূমিকায় সিংহাসন নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংগ্রাম, রক্তপাত, হত্যাকাণ্ড ইত্যাদিও চিত্রিত হয়েছে।
ভয়বৃত্ত

ভয় কি শুধু ভূতেই? নাহঃ, আরো আছে অনেক ভয়ের জিনিস এই পৃথিবীতে! ভয়বৃত্ত কোনও ভৌতিক গল্প সংকলন নয়। এর বারোটি গল্পের প্রত্যেকটির কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের বিভিন্নধরনের ভীতি বা ফোবিয়া। উচ্চতা, মাকড়সা, অন্ধকার, কুকুর বা টিকটিকিকে ভয়।
চরিত্রদের সাথে তাদের ফোবিয়ার যাত্রাপথ নিয়ে গড়ে উঠেছে একেকটি গল্প। কখনও সেই ভয় , আক্রান্তকে নিয়ে যাচ্ছে সাফল্যের দিকে, কখন ও সাহসিকতার দিকে কখনও বা মৃত্যুর দিকে। ভীত ব্যক্তি কখনও যেমন ভয়কে উপেক্ষা করছেন তেমনি কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেই ভয়ের কাছে হয়ে উঠছেন কৃতজ্ঞ। ভয় পালটে দিচ্ছে জীবন, সিদ্ধান্ত, ভাবধারা।
মদ খাওয়া বড় দায়

ঊনিশ শতকের কলকাতা। বঙ্গ দেশের বাবুদিগের নিমিত্ত সে বড় সুখের সময়। দেশে আছে জমিদারি, আর রাজধানীতে বাসা। ঘরে সতী সাধ্বীর স্ত্রীদের সতীত্ব রক্ষা নিয়ে প্রবল আচার, বিধি নিষেধ আর বাইরে বারবধূ সংসর্গেই সামাজিক প্রতিষ্ঠা।সে বড়োই রঙ্গ। একদিকে মদ্যপান নিবারণে প্রবল হৈ চৈ আর অন্যদিকে দ্বার বন্ধ করে প্রবল মদ্যচর্চা।
চারিদিকে মদ খাওয়ার ওই রমরমা দেখে এগিয়ে এলেন কিছু সমাজমনষ্ক কিছু মানুষ। পত্র-পত্রিকাতেও লেখালিখি শুরু হলো। মদ্যপান বিরোধী ওই আন্দোলনে এগিয়ে এলেন এক ডিরোজিয়ান প্যারীচাঁদ মিত্র এবং ডেভিড হেয়ারের এবং হিন্দু কলেজের উত্তর-ডিরোজিও পর্বের ছাত্র প্যারীচরণ সরকার। প্যারীচাঁদ মিত্র মদ খাওয়ার বিরোধিতা করে ‘মাসিক পত্রিকায়’ কয়েকটি প্রবন্ধ লিখলেন এবং তারপর আজ থেকে একশ বাষট্টি বছর পূর্বে টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে ‘মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়’ নামে মদ্যপানের কুফল সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্মক এই উপন্যাসটি লিখে ফেলেন।




