বাংলা ই-বই
আরোহী

আরোহী
অত্যন্ত সাধারণ জীপনযাপনে অভ্যস ্ত ইফতির জীবন হঠাৎই বদলে যায় এক আকষ্মিক ঘটনায়। সাইকেল চালিয়ে বাসা থেকে অফিসে যাবার পথে সে সাক্ষি হয়ে যায় এক ভয়ঙ্কর অপরাধের। নিজের করণীয় ঠিক করার আগেই ঘটনার ঘনঘটায় জড়িয়ে পড়ে সে। একদিকে নষ্ট রাজনীতির ক্ষমতায় মদদপুষ্ট ক্ষমতাবান প্রতিপক্ষ, অন্যদিকে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মনস্তাত্তিক দ্ব›দ্ব। এমন অবস্থায় সবকিছু নির্ভর করছে একজন সাধারণ সাইকেল আরোহীর ব্রেক, পেডাল আর গতির ওপরে। আরোহীর আসনে আপনাকে স্বাগতম।
কৃষ্ণ চরিত্র

কৃষ্ণ চরিত্র
যেমন প্রকাশ্য রঙ্গমঞ্চের উপরে নেপথ্যবিধান করিতে আরম্ভ করিলে অভিনয়ের রসভঙ্গ হয়, কাব্যসৌন্দর্য সমগ্রভাবে শ্রোতৃবর্গের মনের মধ্যে মুদ্রিত হয় না, সেইরূপ বঙ্কিমের কৃষ্ণচরিত্রে পদে পদে তর্কযুক্তি বিচার উপস্থিত হইয়া আসল কৃষ্ণচরিত্রটিকে পাঠকের হৃদয়ে অখণ্ডভাবে প্রতিষ্ঠিত হইতে বাধা দিয়াছে। কিন্তু বঙ্কিম বলিতে পারেন, "কৃষ্ণচরিত্র' গ্রন্থটি স্টেজ নহে; উহা নেপথ্য; স্টেজ-ম্যানেজার আমি নানা বাধাবিঘ্নের সহিত সংগ্রাম করিয়া, নানা স্থান হইতে নানা সাজসজ্জা আনয়নপূর্বক কৃষ্ণকে নরোত্তমবেশে সাজাইয়া দিলাম-- এখন কোনো কবি আসিয়া যবনিকা উত্তোলন করিয়া দিন, অভিনয় আরম্ভ করুন, সর্বসাধারণের মনোহরণ করিতে থাকুন। তাঁহাকে শ্রমসাধ্য চিন্তাসাধ্য বিচারসাধ্য কাজ কিছুই করিতে হইবে না। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
বইঘরে বারুদ

বইঘরে বারুদ
তিন যুগের তিনটি সমান্তরাল কাহিনি নিয়ে তৈরী হয়েছে এই উপন্যাস। প্রতিটি কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে আছে গ্রন্থাগার বা গ্রন্থভাণ্ডার। সমান্তরাল রেখা কখনও পরস্পরকে ছোঁয় না। এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য এই সমান্তরাল তিন যুগের কাহিনি এক কেন্দ্রবিন্দুতে পরস্পরকে স্পর্শ করেছে— বলাবাহুল্য সেটি কোনও এক গ্রন্থাগার বা জ্ঞানভাণ্ডার।
তবে এই গ্রন্থে শুধু রহস্যকাহিনিই তো নেই, আছে আর্কিমিডিসের যুগান্তকারী আবিষ্কারের কাহিনি, যুদ্ধ জয়ের জন্য বৈজ্ঞানিক কৌশল এবং সেই সঙ্গে তার করুণ মৃত্যুকাহিনি। আছে গণিতজ্ঞ দার্শনিক ইউক্লিড ও এরাটস থেনোসর কথা। আছে জুলিয়াস সিজারের যুদ্ধজয়ের কৌশল। রহস্যকাহিনীর সঙ্গে জুড়ে গেছে এক মনোমুগ্ধকর ঐতিহাসিক উপাখ্যান।
খ্রিস্টপূর্ব প্রায় তিনশত বৎসর পূর্বে, বিংশ শতাব্দীর প্রথম পাদ এবং বর্তমান একবিংশ শতাব্দী এই বিস্তৃত সময়কাল জুড়ে এই কাহিনি। আফ্রো-এশিয় এক দেশ, পাহাড়ে ঘেরা এক বিতর্কিত অঞ্চল এবং কলকাতা—এই তিন স্থানের পটভূমি ব্যাপে গড়ে উঠেছে গ্রন্থের কাহিনি। সমান্তরাল রেখা কখনও এক বিন্দুতে মেশে না, কিন্তু এই গ্রন্থের সমান্তরাল তিনটি কাহিনিই এক কেন্দ্রবিন্দুতে মিলেছে। বলা বাহুল্য, সেটা বইঘর বা গ্রন্থাগার।
অযোধ্যার প্রেমকথা

অযোধ্যার প্রেমকথা
পুরুলিয়ার পুরোনো কথা যেন আজও সোমের কানে বাজে। টিউশনের বন্ধুত্ব ও দ্বন্দ্ব, সেই বিকেলের সাইকেল, সেই অদ্ভুত টানাপোড়েন, সবকিছুই যে ন আবার ফিরে আসে। বিচ্ছেদ ও দূরত্বের শুরু এর পর থেকে, সময়টা বদলে যায়; সময়, শহর ও সোমের একাকীত্ব তাকে আরও নিঃশব্দ করে তোলে।
অযোধ্যা পাহাড়ে শেষ সূর্য যখন তার সামনে ডুবে যাচ্ছিল, তখন সে জানত এগোনোই তার শেষ উত্তর।
পঞ্চবান

পঞ্চবান
বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল অঙ্গনে পঞ্চবান আজ মৌলিক কাব্য ঘরানা হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবেই বহু কবির কলমে সমৃদ্ধ। সারা বিশ্বে ২০২০ সালে পঞ্চবান কাব্য সৃষ্টির পূর্বে পাঁচ লাইনের কোন পূর্ণাঙ্গ কবিতা ছিল না। মজাদার ছড়া হিসেবে লিমেরিক ছিল তার প্রথম দ্বিতীয় ও পঞ্চম লাইনের অন্তমিল ও তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন একটু ছোট আকারে অন্তমিল করে। কিন্তু পঞ্চবান কবিতা একদমই একটি নির্দিষ্ট রীতির ওপর দাঁড়িয়ে কবির কলমের উদ্ভাবনী শক্তির ওপর তার পূর্ণাঙ্গ কবিতার ডালি সাজিয়ে পাঁচটি লাইনে, প্রতি লাইনে পাঁচটি শব্দ ব্যবহার বজায় রেখে কখনও পদ্যে, গদ্যে বা কখনও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মাত্রা বিন্যাস করে প্রেম, বিরহ, ভালবাসা, প্রতিবাদ, আতঙ্ক, বাস্তবতা, প্রকৃতি, সচেতনতা, পরিবেশ প্রভৃতি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বার্তা বহন করে নামকরণ সহ একটি সুন্দর সুখ পাঠ্যকর সমৃদ্ধ কবিতা তার পাঠকদের উপহার দিয়ে চলেছে। পঞ্চবান নামের মধ্যেই বান অর্থে তার প্রবাহমান দিক বা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর উন্মুক্ত চিন্তা পূর্ণাঙ্গ কবিতার সঠিক দিশা দেখিয়ে চলেছে।
এরকমই কিছু কবিতার সংকলন এটি।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প সমগ্র ২

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প সমগ্র ২
বিভূতিভূষণের লেখনীর পটভূমি পল্লীবাংলার গ্রামাঞ্চল এবং শহর জুড়ে বিস্তৃত, চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, যশোর প্রভৃতি জেলার গ্রামাঞ্চল, বনগাঁ, রাণাঘাট মহকুমা শহর এবং কলকাতা মহানগরী। বিভূতিভূষণের সমগ্র উপন্যাসের কালগত বিস্তারও খুব সামান্য নয়।
শহরের জীবনে যখন নিরবচ্ছিন্ন ক্ষতির খতিয়ান—তখন এই বাংলাদেশেরই গ্রামপ্রান্তে একটা ‘সব পেয়েছি-র জগৎ' আছে। সেখানে দারিদ্র্য, দুঃখ, বেদনা, শোক সবই আছে, কিন্তু তাদের সমস্ত কিছুতে এমন একটি প্রশান্তি বিকীর্ণ হয়ে রয়েছে যে তার আশ্রয়ে এখনো নিশ্চিন্তে নিমগ্ন হয়ে থাকা যেতে পারে। সে ধরণের গল্পগুলিই এখানে একত্রিত করা হয়েছে। এটি গল্পসমগ্র দ্বিতীয় খন্ড!
ভয় (গল্প সংকলন)

ভয় (গল্প সংকলন)
ভয় - এই শিরোনামের আড়ালে কয়েকটি গল্প। আমাদের ভয়ের কতই তো কারণ থাকে। তবে অশরীরীর ভয়ই সম্ভবত আমাদের সবচেয়ে প্রাচীন ভ য়। যারা একসময়ে মানুষ ছিল কিন্তু এখন আর নেই, তারাও কোনো না কোনো ভাবে থেকে যায় জীবন্ত মানুষগুলোর সাথে, হয়তো ফিরে আস্তে চায়, হয়তো সঙ্গী চায়। এসব নিয়েই এই গল্প ক'টি।
ড্রাকুলা

ড্রাকুলা
কিছু নাম আছে, যা শরীরে শিহরণ জাগানোর জন্য যথেষ্ট। যেমন ব্রাম স্টোকারের ‘ড্রাকুলা’। ১৮৯৭ সালে লেখা তাঁর এই বইয়ের অনুপ্রেরণায় একাধিক চলচ্চিত্র, অনুষ্ঠান, ভ্যাম্পায়ার বা রক্তপায়ীদের নিয়ে কাহিনি তৈরি হয়েছে এবং হয়ে চলেছে। দর্শক এবং পাঠকদের মনে কাউন্ট ড্রাকুলার কাহিনি গেঁথে গিয়েছে। অবশ্য 'কাউন্ট ড্রাকুলা'-র বেশির ভাগটাই লেখকের কল্পনা। তবে ব্রাম স্টোকার তাঁর উপন্যাসের চরিত্রের নামকরণ করেছিলেন বাস্তবে্র এক 'ড্রাকুলা'র নামানুসারেই। বাস্তবের কাউন্ট ড্রাকুলা হলেন ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার। রোমানিয়ার এক ঐতিহাসিক অঞ্চল ওয়ালাশিয়া। তারই প্রিন্স ছিলেন ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার বা তৃতীয় ভ্লাদ। এই প্রিন্সেরই আর এক নাম ছিল ড্রাকুলা। যদিও ওই নামটি ছাড়া কাহিনির ড্রাকুলা এবং ওয়ালাশিয়ার প্রিন্সের আর কোনও চারিত্রিক মিল ছিল না। ইতিহাসবিদদের মতে, উপন্যাসটি লেখার আগে ওয়ালাশিয়াতে এসেছিলেন ব্রাম। সেখানেই ভ্লাদ দ্য ইম্পেলারের কথা শোনেন এবং সেখান থেকেই উপন্যাসের চরিত্রের জন্য ‘ড্রাকুলা’ শব্দটি নেন তিনি।
নির্বাচিত কবিতা সংগ্রহ - শ্যামাপ্রসাদ সরকার

নির্বাচিত কবিতা সংগ্রহ - শ্যামাপ্রসাদ সরকার
দিনান্তে যখন অন্তরমহলে ফিরে একটু অন্তরঙ্গতা আ শা করে ফেলি তা কখন যেন কবিতার ভাষায় কথা ওঠে বলে যেন স্বস্তি পাই।
এই ই-বইএর এই পনেরটি কবিতা আসলে একজন গৃহস্থ ও আটপৌরে কবির অন্তরদহনের পোড়া ছাই। শব্দহীনতার বাহ্যিক আবেশ তাকে তাকে অন্তত কবিতার জগতে ব্রাত্য করেনি। এদের সবকটিকেই পাঠক পাঠিকাদের দরবারে পেশ করার দুঃসাহস দেখাতে সাহায্য করেছেন বইরাগ পাবলিকেশনের সকলে। এমনকি শ্রী অনির্বাণ দাস মহাশয় প্রচ্ছদ এঁকে দেওয়ার ঝক্কি সামলেছেন।
নারী

নারী
“নারী”--- এক চির রহস্য-কথা।
যুগে যুগে পুরুষ এই নারী-কে সেধেছে মনেপ্রাণে আর নারীও পুরুষের সকল আশা-স্বপ্নের কোরক-কে ফুটিয়ে তুলেছে ভারি মমতায়। একথা মেনে নিতেই হবে যে নারী-পুরুষের যৌথ জীবন-গান অনেক সময়েই ছন্দ হারিয়েছে তবে সে ছন্দহারা ছন্নছাড়া প্রাণ গুলি প্রতি পলে অনুভব করেছে যে নারী আর পুরুষ একে অন্যের পরিপুরক। আমি পুরুষ হওয়ার দরুণ প্রাকৃতিক ভাবেই “নারী” আমার কাছে সাধনার--- সাধের।
এক নারী শরীরের মধ্যেই ঘটেছিল আমার ভ্রূণ-জন্ম, তারপর সেই শরীরের পুষ্টি-ভাগ পেয়ে বেড়ে ওঠা
আর তাকে বিদীর্ণ করেই ভূমিষ্ঠ হওয়া, নারীর নরম বুক থেকেই শুষে নেওয়া জীবন-রস, তার চোখের আলোতেই প্রথম পৃথিবী চিনতে শেখা আর তাই আজও তার আঁচলের হাওয়া আমার নিভৃতে। আশৈশব এই “নারী” মগ্নতাই আমার কাছে নারী-কে কখনও “আকাশ”, কখনও “অরণ্য”,কখনও “চন্দন” রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়, আবার নারীর নির্মমতা আমাকে দিয়ে আঁকিয়ে নেয় নারীর “ছিন্নমস্তা” রূপ। সব মিলিয়ে এই বই-এর কথিকা গুলিতে আমার উপলব্ধির “নারী”-কে এঁকেছি নানাভাবে। সেই সুদূর প্রাগৈতিহাসিক ও ঐতিহাসিক কাল থেকে বর্তমান কালপর্ব পর্যন্ত “নারী”-র চিরন্তনী প্রকাশ ছুঁতে চেয়েই আমার এ অক্ষর যাপন।


