ফিকশন
আবার এসো ফিরে

যে জীবন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ, তার বাইরেও থাকে এক অলিখিত জীবন—স্বপ্নের, সম্ভাবনার, এবং কল্পনার। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন যেমন এক দীপ্তিমান প্রদীপ, তেমনি এই গ্রন্থে তিনি হয়ে উঠেছেন এক কাব্যিক চরিত্র, যাঁর অন্তরঙ্গতা, দ্বন্দ্ব, এবং নিঃসঙ্গতা আমাদের নতুন করে ভাবায়।
এই বই কোনো তথ্যভিত্তিক জীবনচরিত নয়, বরং এক সাহিত্যিক অন্বেষণ—যেখানে বিদ্যাসাগর কেবল সমাজ সংস্কারক নন, তিনি এক কবি, এক প্রেমিক, এক নিঃসঙ্গ পথিক। তাঁর চোখে জ্বলছে যুক্তির দীপ্তি, কিন্তু হৃদয়ে বাজছে আবেগের মৃদু সুর। তাঁর পদচারণা যেন এক দীর্ঘ গদ্যকবিতা, যেখানে প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে এক নতুন বাংলার স্বপ্ন।
এই কাল্পনিক জীবনীর প্রতিটি অধ্যায় যেন এক গল্প, এক কবিতা, এক নাট্যাংশ—যেখানে ইতিহাসের ছায়া আছে, কিন্তু আলোটা সম্পূর্ণ সাহিত্যিক। পাঠক, আপনি যখন এই বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো উল্টাবেন, তখন আপনি শুধু একজন মনীষীকে নয়, বরং এক চরিত্রকে আবিষ্কার করবেন—যিনি আমাদের মতোই মানুষ, কিন্তু আমাদের চেয়ে অনেক বেশি স্বপ্নদ্রষ্টা।
চারণিক

মনীষীদের জীবন, সাধনা, কর্ম বিশেষত জীবনী আকারে বিবৃত করে থাকেন বিশিষ্ট জনেরা। সেরকমই এক যুগাবতার, স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে বহু জীবনীকার একাধিক গ্রন্থ রচনা করে গেছেন যেগুলি সম্পূর্ণরূপে আকর গ্রন্থ। সেসব গ্রন্থ সহজলভ্য হলেও বহু পাঠকের কাছে তার পঠন অনেকটাই ভারী হয়ে ওঠে। এমন ক্ষেত্রে উপন্যাস লেখকরা প্রকৃত তথ্য ও তত্ত্বকে অবিকৃত রেখে মনীষীর জীবন সরণি বেয়ে নিজেদের কল্পনাকে মিশিয়ে যে উপন্যাস পাঠকের সামনে তুলে ধরেন, তাতে পাঠকের পক্ষে ওই মনীষীকে জানা কিছুটা সহজ হয়ে ওঠে এবং জীবনী পাঠে পাঠককে আগ্রহী করে তোলে।
স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে এমনই এক উপন্যাস, ‘চারণিক, স্বামী বিবেকানন্দের পরিব্রাজক জীবনের অত্যাশ্চর্য কাহিনি’ রচিত হয়েছে। যেখানে গুরু গম্ভীর তথ্য ও তত্ত্বের ভান্ডার না যোগ করেও স্বামীজি পরিচয়ের আড়ালে কাছের মানুষ বিবেকানন্দকে পরিচয় করানো হয়েছে।
এ সত্য সকলেরই জানা , বিবেকানন্দ অত্যন্ত স্বল্পায়ু ছিলেন। ৩৯ বছর ৫ মাস ২৪ দিনের জীবনের মাত্র আটটি বছরকে এই উপন্যাসে ধরা আছে। সময় কাল ১৮৮৬ থেকে ১৮৯৩। ওনার ২৪ বছর বয়স অর্থাৎ রামকৃষ্ণ সঙ্ঘ স্থাপনার সময় থেকে ৩১ বছর যা শিকাগো বক্তৃতা দানের সময়, এই সময়টুকুতে স্বামীজির পর্যটক হয়ে ভারত ভ্রমণের যা যা কর্মকাণ্ড, সেটুকুই বিধৃত হয়েছে।

