বাংলা ই-বই
অন্ধ প্রহর

দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবারের একমাত্র ছেলেকে ব্ল্যাকমেল করতে গিয়ে নিজেদেরই বিপদ ডেকে আনে দুই যুবক। ঘটনার ক্রমণিকায় তাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে আরো অনেকেই। একটি মিথ্যে যেভাবে একাধিক মিথ্যের জন্ম দেয়, ঠিক একইভাবে একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আরো অপরাধের। কিছু মানুষের ভুল-ভ্রান্তি, লোভ-লালসা আর অপরাধের বিস্তৃত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় এক জটিল সমীকরণের। যে-সমীকরণের সমাধান নিহিত আছে এক অন্ধ প্রহরে।
আরোহী

অত্যন্ত সাধারণ জীপনযাপনে অ ভ্যস্ত ইফতির জীবন হঠাৎই বদলে যায় এক আকষ্মিক ঘটনায়। সাইকেল চালিয়ে বাসা থেকে অফিসে যাবার পথে সে সাক্ষি হয়ে যায় এক ভয়ঙ্কর অপরাধের। নিজের করণীয় ঠিক করার আগেই ঘটনার ঘনঘটায় জড়িয়ে পড়ে সে। একদিকে নষ্ট রাজনীতির ক্ষমতায় মদদপুষ্ট ক্ষমতাবান প্রতিপক্ষ, অন্যদিকে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মনস্তাত্তিক দ্ব›দ্ব। এমন অবস্থায় সবকিছু নির্ভর করছে একজন সাধারণ সাইকেল আরোহীর ব্রেক, পেডাল আর গতির ওপরে। আরোহীর আসনে আপনাকে স্বাগতম।
ফেলুদা ফ্যানফিকশন

ফ্যান ফিকশন ধারণাটা বাংলাসাহিত্যে কিছুটা নতুন, তবে এখন তা বেশ ভালই জনপ্রিয়তা পেয়েছে , এই ধারার সাহিত্যে কোন জনপ্রিয় চরিত্রকে নিয়ে মূল লেখক ব্যতীত উৎসাহী পাঠকরা গল্প লিখে ফেলেন। বাঙালী পাঠককূলে সবথেকে বেশী জনপ্রিয় গোয়েন্দাচরিত্রগুলোর অন্যতম ফেলুদা, সুতরাং তাকে নিয়ে যে ফ্যান ফিকশন লেখা হবে তাতে আর আশ্চর্য কি, বাজারে এরকম কিছু লেখা এসে গেছে, সেখানেই যোগ হলো আরো তিনটে গল্প।
এখন এধরণের লেখা ফ্যান ফিকশন না প্যাস্টিশ তা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, তবে আমরা তা স্থির করার ভার পাঠকের হাতেই তুলে দিলাম।
মহাশয় শুনঃশেপ

শুনঃশেপ, অজীগর্ত এবং রাজা হরিশচন্দ্র পৌরাণিক চরিত্র। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে তাদের আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। মহাশয় শুনঃশেপ কায়াভূত বিবেক। অন্নক্লিষ্ট জীবনেও খাবোকি’র মা আতিথ্য এবং সেবার ইচ্ছে পরিপূর্তির কথাভাবে। জীবনের স্তরে স্তরে আমরাই হয়ে উঠি অজীগর্ত অথবা হরিশচন্দ্র।
জীবন আদতে আলোর দিকেই প্রধাবিত। আলোই তো দিশা। কখনও দীপ্র, প্রখর-মায়াবি মেদুর কোথাও বা মহিমার অনির্বাণ দীপ। চলিত জীবনের বাইরে যে জীবন আছে- জীবনখনিজে মণিময়-মহাশয় শুনঃশেপ তার মার্গদর্শী। মার্গ-প্রদর্শকও বটে।
মন খারাপের বিনুনিরা

প্রতিটি কবিতার শিরোনাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এক একটি উপন্যাস বা গল্পের নামে। বিখ্যাত সাহিত্যিকের লেখা নিয়ে প্যাশটিশ লেখা হয় তা আমরা জানি। হতেই পারতো শীর্ষেন্দুর উপন্যাসগুলোর এক একটা থীম,শীর্ষেন্দুর লেখার গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ ধরে যাকে বলা যায় অলঙ্কারবর্জিত শান্ত, নিরাসক্ত অবলোকন, আর জীবন সম্পর্কে অদ্ভুত এক মমত্ব, এই সব কিছুকে উপজীব্য করে কবিতাগুলো লেখা হয়েছে। হয়তো ঘুনপোকার শ্যাম, পারাপারের ললিত, দূরবীনের ধ্রুব, আশ্চর্য্য ভ্রমণের ইন্দ্রজিৎ , সাঁতারু ও জলকন্যার অলক , নরনারীকথার পরাণ ও মারিয়া, ওয়ারিশের নিরাপদ, বিকেলের মৃত্যুর ববি , লীনা বা চেনা অচেনার নচিকেতারা তাঁদের দ্বিধা-দ্বন্দ্বময়, ক্ষোভময় অসহায় জীবনযাপনের দোলাচল নিয়ে ভীড় করে দাঁড়াত তাঁর কবিতা ঘিরে, ঘনঘন গাঢ় শ্বাস ফেলতো তাঁর কবিতার লাইনগুলোর ঘাড়ে। কিন্তু কবির অভিপ্রায় তা নয় , এ কবিতাগুলো সেরকম নয় । বরং কবির এই প্রথম বইয়েই সুজয়ের নিজস্ব সিগনেচার কাউন্টারের উলটো দিক থেকেই দিব্যি চেনা যাচ্ছে এবং শিরোনামগুলো ছাড়া শীর্ষেন্দুর কোন ছায়া কবিতাগুলোতে নেই।
সপ্তরিপু

গল্পটা কোন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নয়, কিংবা ইতিহাসের বুকে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর কোন সত্যেরও নয়- যা প্রকাশ পেলে পাল্টে যাবে ইতিহাসের গতিপথ। বরং গল্পটা একজন ডিমোশন পাওয়া পুলিশ অফিসারের। একদিকে পারিবারিক বিপর্যয় অন্যদিকে ডিমোশন পেয়ে ক্যারিয়ারের যখন বারোটা বেজে গেছে এমন সময় অদ্ভু¢ত এক কেসের দায়িত্ব এসে পড়ে ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশারের ওপরে। ময়মনসিংহ শহরের পরিত্যক্ত এক পুকুরের নিচ থেকে উদ্ধার হয় একটি পুরনো গাড়ি, সেটার ভেতরে একজন মানুষের লাশ। এই ঘটনার প্রকৃত স্বরূপ উদ্ধার করতে গিয়ে বাশার যখন দিশেহারা তখন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে সাংবাদিক জয়া সরকার। অন্যদিকে তাদের সাথে ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়ে আর্কিওলজিস্ট রিফাত মজুমদার। ঘটনার পরিক্রমায় তারা জানতে পারে বর্তমান সময়ের এই অদ্ভুত রহস্য সমাধান করতে হলে তাদেরকে ডুব দিতে হবে অতীতের এক অন্ধকার সময়ে, যখন ভারতবর্ষের বুকে বিচরণ করে বেড়াত হিংস্রতম খুনে ডাকাতের দল, ইতিহাসে যারা ‘ঠগী’ নামে পরিচিত। বৃটিশ অফিসার ক্যাপ্টেন জেমস ম্যাকফি আর ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশারের সাথে আপনাদেরকেও ঠগী’র অন্ধকার ভুবনে নিমন্ত্রণ।
দশগ্রীব

শস্ত্র কি ? অস্ত্র কি ? মহাদেবের ব্রহ্মাস্ত্র চন্দ্রহাস কি শস্ত্র না অস্ত্র ? রাম, রামায়ন , রাবণ, নানা পৌরাণিক ঘটনা দেন শুরু করে মহামতি সম্রাট অশোক আর গুপ্ত সঙ্ঘ, এইরকম সুদূর বিস্তৃত এবং অনভিপ্রেত জটিল এক রহস্যের জালে জড়িয়ে গেল দুই প্রত্নতাত্ত্বিক। প্রাচীন পুঁথির সোঁদা ঘ্রাণে ভেজা অদ্ভুতে এক ঐতিহাসিক স্মারকের সন্ধানে ছুটে চলেছে সমস্ত ঘটনা প্রবাহ। যেখানে শত-সহস্র শতাব্দী ধরে সত্যের মহীরূহ ঢেকে দিয়েছে ধীরে ধীরে জমতে থাকা অসত্যের আগাছা। যখন উন্মোচিত হতে থাকে এই পুঁথির আসল রহস্য যা বিস্তৃত বাংলাদেশ থেকে শ্রীলংকা, মৌর্য আমল থেকে রামায়ণের সময়ের ভারত পর্যন্ত তার আসল রহস্য কি ? যে ভয়াবহ মিথকে এই পুঁথি নির্দেশ করছে সেটি কি আসলেই আছে নাকি এটি শুধুই একটি মিথ ? যদি তা থেকেই থাকে তাহলে কে শেষ পর্যন্ত হাতে পাবে এই মিথিক্যাল বস্তু ?
দশগ্রীব এক ঐতিহাসিক রহস্য-রোমাঞ্চ আখ্যান। প্রাচীন কথকতার তমসা ভেদ করে দ্ব্যর্থহীন গন্তব্যের পথে বিস্ময়কর, অবিশ্বাস্য এক যাত্রা। ক্ষমতা, রাজনীতি আর ধর্মের ঘোলা কাঁচের নিচে দম আটকে থাকা প্রকৃত ঐতিহাসিক উপাখ্যান উদ্ধারের প্রচেষ্টা।
পাঠক আপনাকে প্রহেলিকাময় অতীত এবং বর্তমানের সত্য এবং অসত্যের মায়াজাল নিরূপণে স্বাগতম।
সপ্তপর্ণী

পনেরটি বাছাই করা গল্পের সংকলন,এই বইতে ভৌতিক-অতিলৌকিক থেকে মানবমনগহনের অলিগলির সন্ধান, অস্তিত্বের সংকট থেকে পুরাণের বিনির্মাণ, গেরস্থালির পিঞ্জরে বসা নারীসত্তার আর্তি থেকে তন্ত্রলোকে দিকভ্রান্ত আত্মার আর্তনাদ – সবরকম বিষয় নিয়ে লিখেছেন লেখকরা। সব চেয়ে বড় কথা, তাঁরা দেখাতে পেরেছেন, গল্প শুধু বললেই হয় না, বলতে জানতে হয়। অর্থাৎ, ভাষার মুনশিয়ানা ছাড়া, গল্প, গল্প হয়ে ওঠে না।
লেখক তালিকা : সংগ্রামী লাহিড়ী, রাজেশ্বরী সুর, দোলা সেন, শরণ্যা মুখোপাধ্যায়, অঙ্গিরা দত্ত দণ্ডপাট, সুষমা ব্যানার্জী, তিস্তা চক্রবর্তী, এস এস অরুন্ধতী, শাশ্বতী রায়, হৈমন্তী ভট্টাচার্য, অর্পিতা মন্ডল, রাণা মুখার্জী, ঋজু গাঙ্গুলী, নন্দিনী চট্টোপাধ্যায়, চয়ন সমাদ্দার
সঙসপ্তক কাহিনী

আলেক্সিস কিভি (১০ অক্টোবর ১৮৩৪-৩১ ডিসেম্বর ১৮৭২) বেঁচে থাকতে তাঁর শ্রেষ্ঠ বই সঙসপ্তক কাহিনি-র সাফল্য দেখে যাননি। কিভি যে আধুনিক ফিনল্যান্ডের বরেণ্য লেখক এবং জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ, একথা বুঝতে অনেক দেরি হয়েছে, এমনকি তাঁর স্বদেশেও। হেলসিঙ্কির রাউতাতিয়েন্তোরি চত্বরে, ফিনিশ জাতীয় নাট্যশালার সামনে, তাঁর মূর্তি বসানো হয় ১৯৩৯ সালে (ভাস্কর: ভ্যাইন্যো আলতোনেন)। বাংলার আগে মোট চৌত্রিশটা ভাষায় কিভির এই উপন্যাসের অনুবাদ বেরিয়েছে, তার মধ্যে এশীয় ভাষা আরবি, চিনে, জাপানি, তুর্কি, ফারসি, হিব্রু।
ফিনল্যান্ডের যে সাত ভাই এই অনূদিত উপন্যাসের নায়ক, তাদের সঙ্গে মহাভারতের ওই দৃঢ়সংকল্প সাহসী যোদ্ধাদের কিছু মিল সত্যিই পাওয়া যায়। কিন্তু ঙ আর দন্ত্য স দিয়ে “সঙ-সপ্তক” বানান কেন? বানানটার কাজ হল মনে করিয়ে দেওয়া যে ওই সাতজন তরুণকে ঠাট্টা করবার জন্যে শত্রুরা যে গান বেঁধেছিল তাতে ওদের বলা হয়েছিল সাতটা সঙ। লোকজনের নির্মম হেনস্তা গায়ে মেখে ওরা জীবনযুদ্ধে এমন রণনীতি বেছে নিয়েছিল যাতে বিদ্রুপের জবাব দিতে পারে। শত্রুদের চোখে চোখ রেখেই ওদের সেই অভাবনীয় জয়যাত্রা, যেটার গুণে এই উপন্যাস বিশিষ্ট সার্থকতা অর্জন করেছে।
এ গল্পের সঙ্গে বাঙালি পাঠকের কী সম্পর্ক? সঙসপ্তক কাহিনির মূল বিষয় হল, ব্রাত্যরা কীভাবে নিজেদের আত্মসম্মান অটুট রেখেও শিক্ষালাভ করে সমাজের মূলস্রোতে স্বীকৃতি পেতে পারে। দারিদ্র্য ও বঞ্চনার ফলে যেসব মানুষ বহু শতাব্দী ধরে শিক্ষার সুযোগ পায়নি, আজ তারা অভূতপূর্ব অনুপাতে ইস্কুল কলেজে যাচ্ছে। নয়া সাক্ষরের অদম্য উৎসাহে ভরা কৌতূহলী চোখে এদিক ওদিক তাকিয়ে জেনে নিচ্ছে কোন পথে চললে পরবর্তী প্রজন্ম এই দুর্দশার শৃঙ্খল কেটে বেরোতে পারবে। আমাদের সারা সমাজ জুড়ে এই যে বিরাট মন্থন চলছে, শিক্ষাপ্রাপ্তি আর মর্যাদালাভের দিকে এগিয়ে চলার এই নাটকীয় সময়টাকে পরিষ্কার বুঝতে পারবার জন্যে স্পষ্টতই বাঙালি পাঠকমাত্রেরই সঙসপ্তক কাহিনি পড়া উচিত।
২৫শে মার্চ

মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশে ফিরে অদ্ভুত এক রহস্যময় ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে অরণি। মৃত্যুর আগে তার মা রেখে গেছে অদ্ভুত এক ধাঁধা আর ধোঁয়াশা মেশানো অতীত। মায়ের মৃত্যু রহস্য উন্মোচিত করতে হলে তাকে সমাধান করতে হবে এই ধাঁধার এবং ডুব দিতে হবে অতীতে। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে তাকে সাহায্য নিতে হয় মায়ের খুনের সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া মানুষটির কাছ থেকেই। ঘটনার পরিক্রমায় নিজেও সে নাম লেখায় পলাতক আসামির খাতায়। অদ্ভুত এই রহস্য সমাধান করতে গিয়ে একদিকে পুলিশের তাড়া, অন্যদিকে অদৃশ্যভাবে তাদেরকে সাহায্য করতে থাকে অচেনা একদল লোক। ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে সে জানতে পারে সমস্ত রহস্যের বীজ রোপিত আছে ইতিহাসের বিশেষ একটি দিনে, ২৫শে মার্চ, ১৯৭১।
আত্মার চুক্তিনামা

সদ্য বাবা হারানাে সাদিক একটি অদ্ভুত বইয়ের সন্ধান পায়। যেমন-তেমন কোন বই নয় বরং সেটি পড়তে হলে পূরণ করা প্রযােজন এক বিশেষ শর্ত। নতুবা কেউ তা খুলতেই পারবে না।
অতঃপর বইটি খুলতে সক্ষম হলে দেখা দেয় আরও নতুন কিছু শর্ত। সেগুলাে পালনের জন্য করতে হবে একটি চুক্তি। সাধারণ কারও সাথে নয়, চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হতে হবে স্বয়ং শয়তানের সঙ্গে; যা করলে কোনাে মানুষের জীবনই আর আগের মত থাকে না।
এই ভয়ানক বইতে আসলে কী আছে? কী ঐ শর্ত আর কেমন 'সেই চুক্তিনামা? সাদিক কি রাজি হবে? হলে কেমন রূপ নিবে তার পরবর্তী জীবন? এসব নির্ভর করে যার ওপর, সেটিই আত্মার চুক্তিনামা। একটি গ্রন্থ— যা বদলে দেয় মানুষের দুনিয়া....

