বাংলা ই-বই
কলিকাতা কল্পলতা

“কলিকাতা কল্পলতা” গ্রন্থটি সম্ভবত বাংলা ভাষায় কোলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস। তত্কালীন কলকাতা কেমন ছিল, তার এক সুন্দর বর্ণনা এখানে পাওয়া যায়। কলকাতার নামকরণ কি ভাবে হল তার একটা ব্যাখ্যা এখানে পাওয়া যায়। এপ্রসঙ্গে “কলিকাতা কল্পলতা’ থেকে ছোট একটি উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে: এক রহস্যজনক জনশ্রুতি এই যে, ইংরাজেরা যখন প্রথমতঃ এইস্থানে বাণিজ্যালয় স্থাপনার্থ আগমন করিলেন তখন গঙ্গাতীরে দণ্ডায়মান কোন লোককে অঙ্গুলী প্রসারণ পূর্বক স্থানের নাম জিজ্ঞাসা করাতে সে ব্যক্তি সেইদিকে শায়িত এক ছিন্নবৃক্ষ দেখিয়া মনে করিল সাহেবরা কবে ঐ বৃক্ষছেদন হইয়াছে, তাহাই জিজ্ঞাসা করিতেছেন। অতএব সে উত্তরচ্ছলে কহিল— “কালকাটা”। সেই হইতে ইংরাজেরা ইহার নাম “ক্যালকাটা” রাখিলেন। জনশ্রুতি থেকে সাহিত্যিক উপাদান আর নথিপত্র, বহুবিধ উৎসের তথ্য বাছ-বিচার করে রঙ্গলাল কোলকাতার ইতিহাস রচনা করেন।
হুতোম প্যাঁচার নকশা

হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরুর সময়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান, যা তিনি “হুতোম প্যাঁচা” ছদ্মনামে লিখেছেন। এটি মূলত ব্যঙ ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে। ১৮৬১ সালে “চড়ক” শিরোনামে একটি নকশায় এটি প্রকাশিত হয়, পরবর্তীতে ১৮৬৩ সালে প্রথম ভাগ এবং ১৮৬৪ সালে দ্বিতীয় ভাগ প্রকাশিত হয়।
চার ইয়ারি কথা

ঘড়িতে রাত দশটা ! ঝড়বৃষ্টি আসবার আশু সম্ভাবনা ! কে সমস্ত আকাশটিকে একখানি একরঙা মেঘের ঘেরাটোপ পরিয়ে দিয়েছে, এবং সে রং কালোও নয়, ঘনও নয়; কেননা তার ভিতর থেকে আলো দেখা যাচ্ছে। ছাই-রঙের কাচের ঢাকনির ভিতর থেকে আলো দেখা যায়, সেইরকম আলো। আকাশ-জোড়া এমন মলিন, এমন মরা আলোতে বাইরে যা-কিছু আছে, সব কিরকম নিস্পন্দ, নিস্পন্দ, নিস্তব্ধ হয়ে গেছে; যা জীবন্ত তাও মৃতের মত দেখাচ্ছে; বিশ্বের হৃৎপিণ্ড যেন জড়পিণ্ড হয়ে গেছে, তার নিশ্বাসরোধ হয়ে গেছে, রক্ত-চলাচল বন্ধ হয়েছে; মনে হচ্ছে যেন সব শেষ হয়ে গেছে যেন আর এক পৃথিবীর আর এক আকাশ;-দিনের কি রাত্তিরের বলা শক্ত।
এ আলোর স্পর্শে পৃথিবী যেন অভিভূত, স্তম্ভিত, মূৰ্জিত হয়ে পড়েছিল। চারপাশে তাকিয়ে দেখি,গাছ-পালা, বাড়ী ঘর-দোর, সব যেন কোনও আসন্ন প্রলয়ের আশঙ্কায় মরার মত দাঁড়িয়ে আছে ! পৃথিবীর উপরে সে রাত্তিরে যেন শনির দৃষ্টি পড়েছিল।
আর এরকম পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছে চার ইয়ার। সেন, সীতেশ, সোমনাথ এবং আমি।
সেন বল্লেন—”যেরকম আকাশের গতিক দেখছি, তাতে বোধ হয়। এখানেই রাত কাটাতে হবে।”
কি ঘটলো সেই রাতে? চেনাজানা পরিধি ছাড়িয়ে চার ইয়ার কি অন্য কিছুর স্পর্শ পেলো ? পড়ুন প্রমথ চৌধুরীর অনবদ্য গ্রন্থ -চার ইয়ারি কথা।
দস্যু মোহন ও রমা

মোহন আর রমার প্রথম দেখা হয়েছিলো রেঙ্গুনগামী জাহাজে, তারপর কি হইতে কি হইয়া গেলো, দস্যু রমণীর প্রেমে পড়িল।
প্রেমে পড়িল তো বটে কিন্তু তার ফলে কি মোহন শুধরে গেলো? উঁহু , সে দস্যু প্রেমের প্রথমে এক খুন হয়ে যাওয়া মহিলার হীরের হার হস্তগত করেই প্রেমিকাকে খুশি করতে গিয়েছিলো, এতেই শেষ নয়, যেখানে প্রাপ্তি সম্ভাবনা এক প্রাচীন গুপ্তধনের সেখানে দস্যু রমার বাড়িতেও ডাকাতি করতে দ্বিধা করে নি।
কিন্তু রমা! সে কিন্তু মনস্থির করে ফেলার পরে আর টলেনি, শেষে জেল থেকে মোহনের মৃতদেহ বার করে আনতেও সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল.
জানতেন এসব কথা ? পড়ুন মোহন ও রমার কাহিনী!
গল্প সংগ্রহ - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বাজি রেখে প্রবেশ করেছিলেন সাহিত্যজগতে, ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’, এই দুটি উপন্যাসই তাকে কিংবদন্তীর লেখকে পরিণত করেছে, কিন্তু উপন্যাসের তুলনায় তাঁর ছোটগল্পের সম্ভার থেকে গেছে অনালোচিত, অজস্র গল্পে তাঁর যে-সিদ্ধি তা অজ্ঞাতই থেকে গেছে। বিচিত্রা-র মত তখনকার দিনের শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো তার প্রথম গল্প ‘অতসী মামী'!
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টিমুখর তিন দশকে রচিত তিন শতাধিক গল্প থেকে কিছু গল্প সযত্নে সংকলিত হয়েছে এই বইটিতে , আশা করি পাঠকের ভালো লাগবে।
সামাজিক উপন্যাস - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিভূতিভূষণের উপন্যাসের পটভূমি পল্লীবাংলার গ্রামাঞ্চল এবং শহর জুড়ে বিস্তৃত। এখানে আছে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, যশোর প্রভৃতি জেলার গ্রামাঞ্চল, বনগাঁ, রাণাঘাট মহকুমা শহর এবং কলকাতা মহানগরী। বিভূতিভূষণের সমগ্র উপন্যাসের কালগত বিস্তারও খুব সামান্য নয়। সমালোচক শ্রী সৌরেন বিশ্বাস জানিয়েছেন—“বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে ১৮৩০ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১৯৪৩ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত কালগত বিস্তার বিদ্যমান”
শহরের জীবনে যখন নিরবচ্ছিন্ন ক্ষতির খতিয়ান—তখন এই বাংলাদেশেরই গ্রামপ্রান্তে একটা ‘সব পেয়েছি-র জগৎ' আছে। সেখানে দারিদ্র্য, দুঃখ, বেদনা, শোক সবই আছে, কিন্তু তাদের সমস্ত কিছুতে এমন একটি প্রশান্তি বিকীর্ণ হয়ে রয়েছে যে তার আশ্রয়ে এখনো নিশ্চিন্তে নিমগ্ন হয়ে থাকা যেতে পারে।
সে ধরণের উপন্যাসগুলিই এখানে একত্রিত করা হয়েছে।
সুকান্ত সমগ্র

সুকান্ত ভট্টাচার্য ! সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন মাত্র মাত্র ২১ বছরের আর লেখালেখি করেন মাত্র ৬/৭ বছর। পরাধীন দেশের দুঃখ দুর্দশাজনিত বেদনা এবং শোষণ মুক্ত স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন, শোষিত মানুষের কর্ম জীবন এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য সংগ্রাম তাঁর কবিতার মূল প্রেরণা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মম্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন। অসুস্থতা অর্থাভাব তাকে কখনো দমিয়ে দেয়নি। মানুষের কল্যাণের জন্য সুকান্ত নিরন্তর নিবেদিত থেকেছেন। মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কাব্যধারার প্রচলিত প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিতে পেরেছিলেন।
সুকান্তের বাল্যবন্ধু ছিলেন কবি অরুনাচল বসু। এই বইয়ে অন্তর্ভুক্ত সুকান্তের চিঠিগুলির বেশিরভাগই অরুনাচল বসুকে লেখা। আর সঙ্গে রয়েছে তাঁর রচিত সমস্ত কবিতা।
গোয়েন্দা রাজের গোয়েন্দাগিরি

ভালোবাসা, বিশ্বাস, সহানুভূতি আর বিবেককে ছাপিয়ে যখন সমাজে প্রতিহিংসা আর বিকৃতি ছায়া ফেলে, তখনই জন্ম নেয় এক সাহসী চরিত্র—রাজ।
দুই বছর আগে প্রকাশিত "গোয়েন্দা রাজে"–র সাফল্যের পর এবার ফিরছে তার নতুন অভিযান, "গোয়েন্দা রাজে'র গোয়েন্দাগিরি"।
কিশোর প্রেমের আবহে গাঁথা এই রহস্য উপন্যাস পাঠককে টানবে প্রথম পাতা থেকেই, ছুঁয়ে যাবে বিবেক, মনন আর সাহসিকতার গভীরতম স্তর।
এই বই শুধু কিশোরদের নয়—যে কোনও পাঠকের জন্য এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো এক উত্তেজনাময় যাত্রা।
অগ্নিযুগের পথচারী

স্বাধীনতা পূর্বের সময়ে বাংলার ফরিদপুর জেলার এক ছোট গ্রামের ছেলে কিশোর বয়সেই ঝাঁপ দেন স্বাধীনতা আন্দোলনে, জেলেও যান, তিনিই এই বইটির লেখক ! তাঁর তরুণ বয়সে ক্রমে ক্রমে তিনি জড়িয়ে পড়েন বিপ্লবীদের দ্বারা সংঘটিত প্রেসিডেন্সি জেলের জেলার কে খুনের মামলায়!
আনাড়ি সন্ন্যাসীর ভেক ধরে ফেরারী হতে বাধ্য হন তিনি! তিনি হৃষিকেশ থেকে ব্রজ, এই বিশাল পথে ঘুরে বেড়ান আর সান্নিধ্যে আসেন যেমন সাধারণ মানুষের তেমনই ধর্মের ধ্বজাধারীদেরও ! তাঁর ভালো মন্দ অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা হয়, আর সেই অভিজ্ঞতা ভাবায় এবং ঋদ্ধ করে পাঠকদেরও!
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের যোগদান ছিল? তাঁরা তো ছিলেন ইউরোপিয়ান আর ভারতীয় এই দুইদিকের মাঝখানে! কিন্তু যাঁদের জন্ম এই দেশে তাঁদের কি কখনো স্বাধীনতা আন্দোলন ডাক দিয়েছিলো?
ভারতীয় দর্শনের একটা অংশ বলে জগৎ মায়া! কিন্তু সাধু সন্ন্যাসীরা যারা কিনা সংসার ত্যাগ করেছিলেন, তাঁদের বুকে কি ভারতের পরাধীনতা বিঁধতো? নাকি তাঁরা সংসার উদাসীন হয়েই থেকে গিয়েছিলেন! স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁরা কি কোনো ভাবে যোগ দিয়েছিলেন? কেমন ছিল বৃন্দাবন থেকে হৃষিকেশে থাকা সাধুসন্তদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান?
আর লেখক দেখেছিলেন সাধারণ মানুষ! ছাপোষা জমাদার নাথুয়া দোসাদ, অন্যের জীবন বাঁচিয়ে যে উঠে যায় এক অন্য স্তরে, লেখক তাকেই উৎসর্গ করেছেন বইটি! আর অনীতা, রতিয়া, নিরুদি, পারু-পরিতোষের কাহিনী যার সমান্তরালে চলে আলাউদ্দিনের আক্রমনে ধ্বংস হওয়া থানেশ্বর মন্দিরের পাশে এক নির্লোভ বাঙালি মুসলমান ফকির আর অশরীরী গঙ্গার কাহিনী, লছমী মহারাজসিং আর তাদের সন্তান বিঠ্ঠলের কাহিনী! অবধূত সদানন্দর কাহিনী, যাযাবর মহান্তজির কাহিনী, যার ইচ্ছে অবতারত্ত্বে উন্নীত হওয়া!
এইসব অকথিত কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত এই অখণ্ড সংস্করণ যাতে আছে অগ্নিযুগের পথচারী এবং অগ্নিযুগের ফেরারি একসঙ্গে।
কবিতা সংকলন - তারাপদ রায়

"আমি যে জীবনযাপন করি, সে নেহাতই ঘরগৃহস্থী। সে কোন কবির জীবন নয়। আমি জানি আমার চেহারায়, চরিত্রে, আচার-আচরণে কোথাও একবিন্দু কবিত্ব নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাজারে যাই,খবরের কাগজ একটু পড়ি, তারপর অফিস, সেখানে এক ধুলিমলিন জরাজীর্ণ প্রাসাদের অন্ধকার কক্ষে আমার দিন শেষ হয়ে যায়, সন্ধ্যাবেলায় বাড়িতে সংসারের কাছ ফিরে আসি। স্ত্রী-পুত্র, ভাই এবং একাধিক নিম্ন বংশজাত সারমেয় নিয়ে আমার সামান্য সংসার, কয়েকজন সুহৃদ, কয়েকজন আত্মীয়। যখন কোনদিন কুয়াশায় ছেয়ে ছেয়ে যায় চরাচর, মধ্যরাতে ডাকবাংলোর জানালায় চাঁদ উঠে আসে দেবদারু পাতার মধ্যে, কিংবা যখন এসব কিছুই হয় না ধুলোপায়ে গ্রামের কৃষক সামনে এসে সোজা হয়ে দাঁড়ায়, বলে, ‘আমার বিষয়টা কি হল’, কোথায় যেন সব কিছু আগাগোড়া এক হয়ে যায়। কোন পার্থক্য থাকে না পরিশ্রমে ও কল্পনায়, কোন প্রভেদ থাকে না জীবিকা ও কবিতায়। সেই আমার আনন্দ।" - ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি লিখেছিলেন তারাপদ রায়।
কিন্তু আমরা পাঠকেরা তাঁর সব কথার সঙ্গে একমত নই, আমরা জানি তাঁর কবিতা আমাদের মনে কি অনুভূতি আনে, আমাদের কোথায় নিয়ে যায়। তাই চলুন আমরা তাঁর কবিতার আস্বাদ গ্রহণ করি, এখানে রয়েছে তাঁর ২২০ টি কবিতা।
ভারতের আখ্যান - মহাভারতে বর্ণিত আখ্যান সমূহ

যা নেই ভারতে তা নেই ভারতে , এই কথাটা কেন বলা হয় ? তার একটা কারণ মহাভারতে ছড়িয়ে থাকা আখ্যান সমূহ, বেশির ভাগ সময়ই এই সব আখ্যানের সরাসরি কোনো যোগ নেই মূল কাহিনীর সঙ্গে। কিন্তু এগুলো বলা হয়েছে উপদেশ দেবার ছলে। এর থেকেই বোঝা যায় প্রাচীন ভারতীয় মন ও মানসিকতা। কেমন ছিল তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা, কেমন ছিল তৎকালীন মরাল , নীতি দুর্নীতির মাপকাঠি। সেই জন্যেই এই গল্পগুলিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর মহাভারতে বর্ণিত এই সব আখ্যান সমূহের্ সংখ্যা কিন্তু কম নয়। এগুলি কে নিয়েই আলাদা ভাবে এই বই।

